
খেলাধুলা ডেস্কঃ চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার মাঠে এক স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন দেখল ফুটবল বিশ্ব। শেষ ৮ মিনিটে তিন গোল করে রিয়াল মাদ্রিদ বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে। এদিন ২০ মিনিটে স্বাগতিকদের প্রথম গোলটি করেন মার্থেন ডি রুন। ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শট থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে জালে ঢোকে।
তবে এর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ভুলের মাশুল দিতে হয় রোমাকে। এরমোসো একটি বল কাটতে গিয়ে ভুল করেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে ফাঁকা পথ পেয়ে যান। তার শট গিয়ে আছড়ে পড়ে জালে। এটি ছিল এমবাপ্পের চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০তম ম্যাচ। এই গোল ছিল টুর্নামেন্টে তার ৭২তম। এতে তিনি রিয়ালের কিংবদন্তি রাউল গনজালেসকে ছাড়িয়ে সর্বকালের সেরা পাঁচে ঢুকে পড়েছেন। বিরতির আগে মার্ক কুকুরেইয়া ও জুড বেলিংহ্যামও গোলের কাছে যান, তবে গোল আর পাননি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ডনিয়েল মালেন ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করলে ১৫ বারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার উপক্রম হয়; রোমা তখন দুর্দান্ত দাপট দেখাচ্ছিল। তবে শেষ ছয় মিনিটে হোসে মরিনহোর শিষ্যরা তিনটি গোল করে ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয়। প্রতিটি গোলই আসে কর্নার কিক থেকে।
কর্নারের পর হেডে ফিরে আসা বল কাছ থেকে জালে পাঠান কার্লোস এসপি। ব্যবধান কমে ২-৩। এর দুই মিনিট পর আরেকটি কর্নার থেকে হেডে গোল করেন এন্ড্রিক। ম্যাচ ৩-৩ হয়ে যায়। ৯০তম মিনিটে শেষ আঘাত হানেন রোমার সাবেক ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। মার্কারকে পেছনে ফেলে তিনি কাছ থেকে বল জালে পাঠান। রিয়াল ৪-৩ গোলে জিতে নেয়। স্তম্ভিত হয়ে পড়ে স্তাদিও অলিম্পিকো।
ম্যাচ শেষে মোরিনহো বলেন, বলা যেতে পারে, একই ম্যাচে যেন দুটি আলাদা খেলা হয়েছে। শুরুর দিকে রোমা সব দিক থেকেই ভালো খেলেছিল। যখন স্কোর ৩-১ ছিল, তখন সবাই সম্ভবত ভেবেছিল ম্যাচ শেষ। রোমার দায়িত্বে আড়াই বছর থাকাকালীন মোরিনহো কনফারেন্স লিগের শিরোপা জয় এবং ইউরোপা লিগের ফাইনালে দলকে পৌঁছে দিয়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। সাত বছরেরও বেশি সময় পর রোমার মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে, স্বাগতিক দর্শকরা ব্যানার প্রদর্শন ও স্লোগান দিয়ে এই পর্তুগিজ কোচকে সম্মান জানান।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্যায়ে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের সংগ্রহ ছয় পয়েন্ট, অন্যদিকে রোমার ঝুলিতে রয়েছে এক পয়েন্ট।
